ইব্রাহিম হোসেন এক শিক্ষিত সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও, নিরন্তর চেষ্টা-সাধনা-সংগ্রাম করেই তিনি নিজেকে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁর পিতা খান সাহেব মীর হোসেন যখন কোলকাতা আলীপূর কোর্টে ম্যাজিষ্ট্রেট, তখন তিনি ভর্তি হন সেন্ট বার্নাবাস স্কুলে। সেখানে তিনি প্রথম প্রত্যক্ষ করেন হিন্দু সাম্প্রদায়িকতার ভয়াল-বীভৎস রূপ। হিন্দু-বৃটিশ ষড়যন্ত্রের শিকার মুসলিম জনগোষ্ঠীর মুক্তির জন্য তার বালকমন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। তাই আমলার ছেলে হওয়া সত্ত্বেও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে যোগ দিতে ইব্রাহিম হোসেনের কোনো দ্বিধা-সংকোচ বা অসুবিধা হয়নি। ছাত্র জীবনেই তিনি নিজেকে কওমের খেদমতে উৎসর্গ করেন। পাকিস্তান আন্দোলনে তরুণ ইব্রাহিম হোসেন নিজেকে উজাড় করে দিয়েছিলেন। ‘৪৭ পরবর্তীতে শূন্য থেকে শুরু হয়েছিলো দেশ গঠনের কাজ। এ কাজেও ইব্রাহিম হোসেন যথোপযুক্ত ভূমিকা পালন করেন। জাতির পিতা কায়েদে আযম মুহম্মদ আলী জিন্নাহ যখন পূর্ব পাকিস্তান আগমন করেন তখন রিসেপশন কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব অর্পন করা হয় তাঁর ওপর। তিনি এক সময় ঢাকা সিটি মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন। মুসলিম লীগ ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যও ছিলেন। নির্বাচিত হয়েছিলেন পাকিস্তান ন্যাশনাল এসেম্বলির মেম্বার।
তবে রাজনীতি ও ক্ষমতা কখনোই তাঁকে সমাজ সেবার মহান ব্রত থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। কারণ তাঁর রাজনীতি ছিলো মানুষের কল্যাণের জন্য। সেজন্যই আজীবন সমাজ সেবার সাথে যুক্ত বহু প্রতিষ্ঠানের উচ্চ পদে তিনি সমাসীন। আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ব্যবস্থাপনা পরিষদের সিনিয়র সহ সভাপতি তিনি।
রাজনীতি ও সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন সময়ে পেয়েছেন বহু পদক ও সনদ। পাকিস্তান আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করার স্বীকৃতি স্বরূপ পাকিস্তান সরকার ১৯৯২ সালে তাঁকে স্বর্ণপদক প্রদান করে।
|