Home EBooks ৭১এর আত্মঘাতের ইতিহাস

eBooks

Latest Comments

একাত্তরের আত্মঘাতের ইতিহাস
একাত্তর নিয়ে কেন এ লেখা Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 01:46
মানব হিসাবে প্রত্যেকের কিছু দায়-দায়িত্ব থাকে। মুসলমান হিসাবে কিছু বাড়তি দায়িত্বও থাকে। আর সে বাড়তি দায়িত্বটা হল সত্যের পক্ষে সাক্ষী দেওয়া। ইসলামে এটিকে বলে শাহাদতে হক তথা সত্যের পক্ষে সাক্ষ্যদান। মুসলমান হওয়ার জন্য কালামে শাহাদত জনসম্মুখে পাঠ করতে হয়। লা-শরীক আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল সত্য - কালেমায়ে শাহাদত পাঠের মধ্য দিয়ে সে সাক্ষীটিই প্রবল ভাবে দিতে হয়। তবে সে দায়িত্ব এখানেই শেষ হয় না, শুরু হয় মাত্র। সত্যের পক্ষে এরূপ প্রকাশ্য সাক্ষ্যদানের পর, প্রতিটি মুসলমানের জীবনে সেটিই তার আমৃর্ত্যু জীবন-সংস্কৃতিতে পরিণত হয়। ফলে জীবনের আশে পাশে যে সত্যঘটনা ঘটে তাকে সেগুলিরও পক্ষ নিতে হয়। সত্যকে বিজয়ী করতে সে শুধু মসজিদে, জনপদে বা জিহাদের ময়দানেই যায় না, আদালতেও যায়। সত্যের পক্ষে সাক্ষী দিতে হয় সর্বসাধারণের বিবেকের আদালতেও। সে কাজটি করে লেখনী। এজন্যই লেখকের কলমের কালিকে শহিদের রক্তের চেয়ে পবিত্র বলা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে সে কাজটি যথার্থ ভাবে হয়নি। ফলে সত্য ও ন্যায়নীতি পরাজিত দেশটির সর্বত্র। ইসলামের পক্ষের শক্তি আজ পরাজিত শক্তি। এবং দুর্বৃত্তি ছেয়ে গেছে শুধু প্রশাসনে, রাজনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিতেও। যে সমাজে নামায রোযা আছে অথচ রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তিতে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষ নেওয়ার লোকের অভাব সে সমাজে সুবিচার, সুনীতি ও শান্তি আসে না। তখন সুস্থ্য সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মিত হয় না।  সে দেশে অতিশয় দুর্বৃত্তরাও তখন নেতা হয়, এমপি হয় এবং মন্ত্রীও হয়। মিথ্যাজীবীরা তখন বুদ্ধিজীবী রূপে গন্য হয়। দেশ তখন দূর্নীতিতে বার বার বিশ্ব রেকর্ড গড়ে। আর বাংলাদেশ তো তেমনই এক দেশ।
 
অধ্যায় ১: ইতিহাসের নামে মিথ্যাচার Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 01:53
বাংলাদেশে একাত্তরের ঘটনাবলি নিয়ে প্রচুর মিথ্যাচার হয়েছে। বিকৃত হয়েছে ইতিহাসের পাঠ্যপুস্তক। লেখা হয়েছে অসত্যে ভরপুর অসংখ্য গ্রন্থ, গল্প, উপন্যাস ও নাটক। নির্মিত হয়েছে বহু ছায়াছবি। এখনও সে বিকৃত ইতিহাস রচনার কাজ চলছে জোরেসোরে। এ পরিকল্পিত মিথ্যাচারের লক্ষ্য একটিই। আর তাহলো, দেশ-বিদেশের মানুষ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম থেকে সত্যকে আড়াল করা। এবং যারা একাত্তরের লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছে তাদের কৃত অপরাধগুলো লুকিয়ে নিজেদেরকে ফেরেশতাতুল্য রূপে জাহির করা। সে সাথে বিরোধী পক্ষকে দানব রূপে চিত্রিত করা। যারা দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিক্ষার ঝুলিতে পরিণত করলো, গণতন্ত্রকে পাঠালো নির্বাসনে এবং মানুষকে পাঠালো ডাষ্টবিনের পাশে কুকুরের সাথে উচ্ছিষ্ঠ খোঁজের লড়াইয়ে তাদেরকে আজ হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বলা হচ্ছে বস্তুত সে পরিকল্পনারই অংশ রূপে। এ মিথ্যাচারের আরেক বড় লক্ষ্য,একাত্তরে বাংলার মুসলামানদের মধ্যে যে রক্তক্ষয়ী বিভক্তি সৃষ্টি হল, সেটিকে স্থায়ী রূপ দেয়া। বিভক্তিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্যই পরিকল্পিত ভাবে ঘৃণা ছড়ানো হচেছ। এ লক্ষ্যে একাত্তরে দালাল শব্দটির মত অতি বিষপূর্ণ শব্দের প্রয়োগ বাড়ানো হয়েছে। যারাই একাত্তরে পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল তাদেরকেই দালাল বলে তীব্র ঘৃণা ছড়ানো হচ্ছে। এমন ঘৃণা ছড়ানোর একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল। তাছিল পাকিস্তানপন্থিদের বিরুদ্ধেকৃত অপরাধগুলোকে জায়েজ করা। আর সে লক্ষ্যে সফলও হয়েছে।
 
অধ্যায় ৩: ইতিহাস ভরপুর পক্ষপাতদুষ্টতায় Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 03:03
পুলিশ, উকিল বা বিচারকের ভূমিকায় নামা ইতিহাসের লেখকের কাজ নয়। ঘটনা ঘটে যায়। সে ঘটনার পক্ষ-বিপক্ষের নিরপেক্ষ বিচারের দায়ভার প্রতিটি ব্যক্তির। যিনি ইতিহাস লেখেন তার দায়িত্ব,সে বিচারকার্যে ব্যক্তিকে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে সাহায্য করা। কিন্তু বাংলাদেশে ইতিহাস লেখকদের বড় ব্যর্থতা এবং সে সাথে বড় অপরাধ হল, পাঠকের সামনে নিরপেক্ষ তথ্য তুলে ধরতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। বরং নিজেরাই বাদী, নিজেরাই পুলিশ, সরকারি উকিল ও সরকারি ম্যাজিস্ট্রেটের ভূমিকায় নেমেছেন। মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য দিয়ে ঘটনার বিচারে জনগণকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। তারা এক পক্ষের প্রচন্ড গুণকীর্তন ও অপর পক্ষের চরিত্রহনন করেছে। ইতিহাসের বিচার প্রত্যেকের কাছেই ভিন্ন ভিন্ন। কারণ,এখানে কাজ করে ব্যক্তির নিজস্ব চিন্তা-চেতনার মডেল। তাই একই ঘটনার রায় ব্যক্তিতে ব্যক্তিতে ভিন্নতর হয়। হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে আণবিক বোমা নিক্ষেপের পর এক পক্ষের কাছে সেটি শুধু ন্যয্য নয়, উৎসবযোগ্যও গণ্য হয়েছে। ইরাকে ইঙ্গো-মার্কিন যৌথ আগ্রাসন, হত্যা ও বোমাবর্ষণ ইরাকীদের কাছে যত নিষ্ঠুরই হোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট, ব্রিটেন ও তাদের মিত্রদের কাছে গণ্য হচ্ছে সভ্যতা ও গণতন্ত্রের নির্মাণে অতি মহৎ কর্ম রূপে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বুশ ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রি ব্লেয়ারের এ নিয়ে কত অহংকার! এমন হত্যাকান্ডে নিয়োজিত নিজ দেশের নিহত যোদ্ধাদেরকে তারা জাতীয় বীর মনে করে।
 
অধ্যায় ৫: পাকিস্তান সৃষ্টিতে বেশী লাভবান হয়েছিল বাঙ্গালী মুসলমান Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 03:08
সমগ্র উপমহাদেশে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বুদ্ধিবৃত্তি সর্বক্ষেত্রে সবচেয়ে পিছিয়ে ছিল বাঙালী মুসলমানেরা। বিহার, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ এসব প্রদেশে মুসলমানদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শতকরা ১৫ ভাগের বেশী ছিল না কিন্তু তারা শিক্ষাদীক্ষায় হিন্দুদের চেয়ে অগ্রসর ছিল। বাংলায় মুষ্টিমেয় যে ক’জন লেখাপড়া শিখছিল তাদের পক্ষে প্রতিবেশী হিন্দুদের সাথে প্রতিযোগীতা করে চাকুরিতে ঢুকা সহজ ছিল না। সহজ ছিল না ব্যবসা-বাণিজ্যে সামনে এগুনো। পূর্ব থেকে প্রতিষ্ঠিত অগ্রসর হিন্দুরা তাদের জন্য সামান্যতম স্থানও ছেড়ে দিতে রাজী ছিল না। চিত্তরঞ্জন দাশ একবার চাকুরিতে মুসলমানদের জন্য সংখ্যানুপাতে বরাদ্দের কথা বলেছিলেন, কিন্তু বর্ণহিন্দুরা তার সে প্রস্তাব তৎক্ষনাৎ নাকোচ করে দেয়। আজকের ভারতে আজও তারা দিচ্ছে না। ভারতে মুসলমানদের সংখ্যা শতকরা ১৫ ভাগ হলে কি হবে, সরকারি চাকুরিতে শতকরা ২ ভাগও তারা নয়। ফলে ভারতের মুসলমানগণ আজ সেদেশের নমশুদ্র বা হরিজনদের থেকেও পশ্চাদপদ। এবং সে ঘোষণাটি এসেছে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং কর্তৃক স্থাপিত এক তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে।
 
অধ্যায় ২: সত্য যেভাবে মারা পড়েছে Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 02:55
এ নিয়ে সন্দেহ নেই যে একাত্তরের লড়াইয়ে বিস্তর রক্তক্ষয় হয়েছে,কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস রচনাকারিদের হাতে যেটি মারা গেছে সেটি হল সত্য ও ন্যায়বিচার। একাত্তরের লড়াইয়ে বিজয়ী হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা। বিজয়ের পর তারা শধু দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনই দখলে নেয়নি,দখলে নিয়েছে ইতিহাস রচনার ন্যায় এ্যাকাডিমিক বিষয়ও। আওয়ামী শাসনামলে সরকারি অর্থে সরাকরি লোকদের লাগানো হয়েছিল ইতিহাস রচনার কাজে। ফলে যা রচনা হয়েছে তার অনেকটাই আর নিরেপক্ষ ইতিহাস থাকেনি। খুঁটিনাটি বিষয় দুরে থাক, তাদের পেশ করা প্রধান প্রধান তথ্যগুলো যে কতটা অসত্য সে প্রমাণ কি কম? লেখা হয়েছে,পাক-বাহিনী একাত্তরে তিরিশ লাখ বাঙ্গালীকে হত্যা করেছিল। হুশজ্ঞান ও বু্‌দ্ধিবিবেচনা আছে এমন ব্যক্তিকে দিয়ে এ তথ্য কি বিশ্বাস করানো যায়? তিরিশ লাখের অর্থ তিন মিলিয়ন। সে সময় বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে সাত কোটি অর্থাৎ ৭৫ মিলিয়ন। যে কোন স্কুল ছাত্রও হিসাব করে বের করতে পারে, তিরিশ লাখ মানুষের মৃত্যু হলে প্রতি ২৫ জনে মারা যেতে হয় একজনকে। যে গ্রামে ১ হাজার মানুষের বাস সে গ্রামে মারা যেতে হয় ৪০ জনকে। ঘটনাক্রমে সে গ্রামে কেউ মারা না গেলে পরবর্তী গ্রামটি যদি হয় ১ হাজার মানুষের তবে সেখান থেকে মারা যেতে হবে ৮০ জনকে। যে থানায় ১ লাখ মানুষের বাস সেখানে মারা যেতে হবে ৪ হাজার মানুষকে।
 
অধ্যায় ৪: পাকিস্তানের ব্যর্থতার জন্য দায়ী কি শুধু পশ্চিম পাকিস্তানীরা? Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 03:06
এ নিয়ে দ্বিমত নেই, পাকিস্তান বহু ক্ষেত্রেই চরম ভাবে ব্যর্থ হয়ছে। কিন্তু সে ব্যর্থতার জন্য দায়ী কি শুধু পশ্চিম পাকিস্তানীরা? সে ব্যর্থতার জন্য পূর্ব পাকিস্তানীদের কি কোন দায়ভারই নাই? অথচ পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬% ভাগ ছিল পূর্ব পাকিস্তানী। ফলে সকল ব্যর্থতা থেকে দেশকে বাঁচানোর বড় দায়িত্ব ছিল পূর্ব পাকিস্তানীদের। সমগ্র পাকিস্তানের শিক্ষা, শিল্প, কৃষি, বাণিজ্যের অগ্রগতিতে অংশ নেওয়া দূরে এমনকি নিজ প্রদেশের নিজস্ব রাজনীতিতেও তারা ক্ষতার পরিচয় দিতে পারেনি। অথচ পশ্চিম পাকিস্তানের মত পূর্ব পাকিস্তানে চারটি প্রদেশ ছিল না। নানা ভাষাভাষির বিভক্তিও ছিল না। কিন্তু আত্মঘাতি রাজনীতির কারণে নিজের ঘর গোছাতেই তারা চরম ভাবে ব্যর্থ হয়। কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধী আওয়ীম লীগ, শেরে বাংলার কৃষক শ্রমিক প্রজা পার্টি,নেজামে ইসলাম পার্টি, গণতন্ত্রি দল ও খেলাফতে রাব্বানী পার্টি ২১ দফার ভিত্তিতে যুক্ত ভাবে নির্বাচন করে। নির্বাচনে তারা বিপুল ভাবে বিজয় লাভ করে। ২৩৭টি আসনের মধ্যে তারা ২২৮টি আসন তারা লাভ করে। কিন্তু বিজয়ের পর পরই তারা লিপ্ত হয় আত্মঘাতি লড়াইয়ে।
 
অধ্যায় ৬: পাকিস্তানপন্থিদের আত্মঘাতি ভূমিকা Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 03:57
পাকিস্তানের ব্যর্থতার জন্য শুধু দেশটির শত্রুরাই দায়ী নয়, দায়ী মিত্র বা শুভাকাঙ্খীরাও। পাকিস্তানপন্থি ও ইসলামপন্থিদের রাজনীতিও কি কম আত্মঘাতি? রোগী অনেক সময় মারা যায় রোগের কারণে নয়, চিকিৎস্যকের ভূল চিকিৎসার কারণে। পাকিস্তানের ক্ষতিটা হয়েছে দুই পক্ষ থেকেই। পাকিস্তানের মূলে সর্ব প্রথম যে কুড়ালটি আঘাত হানে তা হল ভাষা আন্দোলন। আন্দোলন শুরু করে তমুদ্দন মজলিসের মত একটি সংগঠন যা দেশে মুসলিম তাহজিব ও তামুদ্দনের কথা বলে। ইসলামি চেতনার কথাও বলে।কথা হল,আন্দোলনের জন্য দিন-ক্ষণ কি যথার্থ ছিল? শত্রুর ষড়যন্ত্রের শিকার পাকিস্তান তার ক্ষতবিক্ষত-জিন্নাহর ভাষায় পোকায় খাওয়া-দেহ নিয়ে সবে মাত্র যাত্রা শুরু করেছে, তখনও দেশটি নিজের ঘর গুছিয়ে নিতে পারেনি। সমাধান হয়নি দেশের শাসনতান্ত্রিক সমস্যার। ওদিকে মরণ কামড় দিতে ওঁত পেতে বসে ছিল প্রতিবেশী শত্রু রাষ্ট্রটি। আর তখনই শুরু হল এ বিশাল আন্দোলন। রাষ্ট্রভাষার বিষয়টি গুরুতর, বিশ্বের বহু দেশে এর চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বছরের পর বছর ধরে চিন্তাভাবনা হয়। রাজপথ উত্তপ্ত না করে এক উত্তেজনামূক্ত পরিবেশে দেশের চিন্তাশীল ব্যক্তিরা এ নিয়ে গভীর চিন্তা ভাবনা করেন, নিজেদের মাঝে মতের আদান প্রদানও করেন।
 
«StartPrev1234NextEnd»

Page 1 of 4
 

Most Read