Home EBooks ৭১এর আত্মঘাতের ইতিহাস উপসংহারঃ যে লড়াই হতে হবে বিরামহীন

eBooks

Latest Comments

উপসংহারঃ যে লড়াই হতে হবে বিরামহীন Print E-mail
Written by ফিরোজ মাহবুব কামাল   
Sunday, 19 October 2008 20:12
মুসলমানদের জীবনে মাথা তুলে দাঁড়ানো ও সামনে এগুনোর লড়াই বিরামহীন।এ লড়াইয়ে যুদ্ধ তাই প্রতিদিন।এসব যুদ্ধের কোনটিতে যেমন বিজয় আছে, আবার কোনটিতে পরাজয়ও আছে। এসব যুদ্ধ হঠাৎ করে যেমন শুরু হয় না, তেমনি শেষও হয় না। বাঙালী মুসলমানদের স্বাধীনতার লড়াইয়ের শুরু সেদিন থেকেই যেদিন সেটি লুট হয়েছিল ঔপনিবেশিক ব্রিটিশের হাতে। এ লড়াইয়ে যুদ্ধ হয়েছে অনেক। সবগুলোই যে সশস্ত্র তা নয়। কোনটি লড়তে হয়েছে অস্ত্র হাতে, কোনটি ভোটে, আবার কোনটি মেধা,দর্শন ও বিদ্যাবু্‌দ্ধি দিয়ে। বিরামহীন এ লড়াইয়ের মধ্য দিয়েই প্রতি মুহুর্তে পরীক্ষা হয় তাঁর ঈমানের,তথা আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ে তার অঙ্গিকারের। অবিরাম এ লড়ায়ে উপমহাদেশের মুসলমানদের জীবনে সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি সংঘটিত হয়েছিল ১৯৪৭ সালে। তবে সেটি সশস্ত্র যুদ্ধ ছিল না, ছিল দুটি ভিন্ন দর্শনের। যুদ্ধটি ছিল রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক। এক পক্ষে ছিলঃ সেকুলার ভারতীয় জাতীয়তাবাদ; তাদের লক্ষ্য ছিল হিন্দু-মুসলমানের মিলিত অখন্ড ভারত। অপর দিকে ছিল প্যান-ইসলাম-যার ভিত্তিতে নানা ভাষাভাষি মুসলমান স্বপ্ন দেখেছিল মুসলমানদের হৃত গৌরব ফিরিয়ে আনার।

১৯৪৭-এর যুদ্ধে মুসলমানেরা বিজয়ী হয়েছিল। বিজয়ের কারণ,মুসলমানগণ সে সময় কিছু আলোকিত নেতা পেয়েছিলেন। পেয়েছিলেন শক্তিশালী কলম যোদ্ধা। তাদের সামনে ছিল ইসলামী জীবন দর্শন। ছিল একতা। সে একতা ও ইসলামি অঙ্গিকার মর্তের বুকে নামিয়ে এনেছিল আল্লাহর সাহায্য। আল্লাহর মেহেরবানীতেই সেদিন সম্ভব হয়েছিল বীনা যুদ্ধে বিশ্বের সর্ব বৃহৎ মুসলিম রাষ্ট্রের নির্মাণ। অভিন্ন ভাষা ও অখন্ড ভূগোলের মুসলিম দেশ – যেমন আরব ভূমি-যখন বহু টুকরায় বিভক্ত হচ্ছিল তখন উপমহাদেশের নানা ভাষার ও নানা বর্নের মানুষের ১২শত মাইলে বিভক্ত ভূ-খন্ড নিয়ে একটি অভিন্ন দেশ গড়েছিল। মুসলিম বিশ্বে এ ছিল একতার মডেল।শূণ্য হাতে সেদিন এই নতুন রাষ্ট্রটির নির্মাণ-কাজ শুরু হয়েছিল। শুরুর সে দিনগুলিতে লক্ষ লক্ষ নিঃস্ব ও ছিন্নমূল উদ্বাস্তু প্রাণ বাঁচাতে ছুটে এসেছিল ভারত থেকে। কিন্তু আসেনি কোন বিদেশী সাহায্য। তারপরও সেদিন দেশ তলাহীন ভিক্ষার ঝুলিতে পরিনত হয়নি। নেমে আসেনি ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ। মানুষ সেদিন কুকুরের সাথে উচ্ছিষ্ট খোঁজায় যুদ্ধ লড়তে হয়নি। যেমনটি আওয়ামী বাকশালী আমলে হয়েছে। আল্লাহর সাহায্য আসলে একটি জাতি চরম বিপদের দিনেও এভাবে ইজ্জত নিয়ে বিশ্ব মাঝে মাথা তুলে দাঁড়ায়। অথচ একাত্তরে পৌত্তলিক ভারত ও সোভিয়েত রাশিয়ার ন্যায় কাফের শক্তির সাহায্যে বাংলাদেশীদের সে ইজ্জত জুটেনি। বরং জুটেছিল সীমাহীন জিল্লতি ও অপমান। কিন্তু ৪৭-এর সে বিজয় বাংলাদেশের মানুষ ধরে রাখতে পারিনি। বিশ্বের বুকে সর্ব বৃহৎ মুসলিম শক্তির নির্মানের যে প্রতিজ্ঞা নিয়ে ১৯৪৭-এ যাত্রা শুরু হয়েছিল সে প্রতিজ্ঞায় তারা স্থির থাকতে পারিনি। আর এর কারণ, তাদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিপর্যয়। সে সাথে ছিল ভারতের ষড়যন্ত্র ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাদের বিশাল পুঁজির বিণিয়োগ। সিরাতুল মোস্তাকিমে টিকে থাকার কাজ ইসলামে অঙ্গিকারহীন সেকুলার নেতাদের ইমামের আসনে বসালে হয়না। ভারতের ন্যায় হিন্দু আগ্রাসী শক্তির আশির্বাদ ও সাহায্যে সে পথ মেলে না। সেটি অর্জিত হয় না সেকুলার সাহিত্য পাঠে। এ জন্য চাই,ইসলামি জ্ঞান-সমৃদ্ধ চেতনা। জন্মের পর শিশুকে শুধু পানাহার জোগালে সে মানবতা পায় না। এজন্য পানাহারের সাথে শিক্ষাদানও অপরিহায্য। তেমনি শুধু রাষ্ট্র নির্মাণ করলেই চলে না,সে রাষ্ট্রকে ইসলামী শিক্ষার উপরও প্রতিষ্ঠিত করতে হয়। নইলে সে রাষ্ট্র মুসলমানদের জন্য এবং সে সাথে মানবতার জন্য কল্যাণকর হয় না।এবং পরিচর্যা পায় না ইসলামি চেতনা। রাষ্ট্রে ইসলামি শিক্ষার বিস্তারে মূল দায়িত্ব হল,মোখলেছ আলেম ও ইসলামের বিজয়ে অঙ্গিকারবদ্ধ কলম যোদ্ধাদের। তাঁদের লড়তে হয় মিথ্যা ও অজ্ঞতার বিরুদ্ধে। একটি জাতির জীবনে সবচেয়ে বড় যুদ্ধটি হয় মূলতঃ বুদ্ধিবৃত্তির এ অঙ্গনেই। এজন্যই নবীজী (সাঃ) বলেছেন, জ্ঞানীর কলমের কালি শহিদের রক্তের চেয়েও পরিত্র। বাংলাদেশের ইসলামপন্থিদের মূল পরাজয়টা হয়েছে এক্ষেত্রে। বুদ্ধিবৃত্তির এ ময়দানে বিজয়ী হয়েছে ইসলামের শত্রুপক্ষ। আর বুদ্ধিবৃত্তিক পরাজয়ের পথ বেয়েই এসেছে ইসলামপন্থিদের রাজনৈতিক পরাজয়। একাত্তরের ১৬ই ডিসেম্বর হল ইসলামপন্থিদের সে পরাজয়ের দিন। তবে একাত্তরের যুদ্ধ শেষ হলেও,লড়াই শেষ হয়নি। চলমান এ লড়ায়ের মূল লক্ষ্যঃ ইসলামের পূর্ণাঙ্গ বিজয়। একমাত্র এভাবেই নেওয়া যেতে পারে ইসলামের দুষমনদের দ্বারা কৃত অতীতের সকল ষড়যন্ত্র ও জুলুমের প্রতিশোধ। বাংলাদেশের দুর্বৃত্ত সেকুলার নেতারা দেশকে হত্যা, লুট ও দূর্নীতি ছাড়া কিছুই দেয়নি। দিয়েছে বিশ্বব্যাপী সীমাহীন অপমান। তাদের রয়েছে বিভক্তি,সংঘাত,হত্যা, লুট ও সীমাহীন দূর্নীতির সামর্থ। রয়েছে বিদেশী শক্তির কাছে দেশ-বিসর্জনের সামর্থ। সেটি যেমন শেখ মুজিব ও তার বাহিনী প্রমাণ করেছে, তেমনি প্রমাণ করছে তাঁর উত্তরসুরীরাও। বাংলাদেশ এদের কারণেই দূর্নীতে বিশ্বে বার বার শীর্ষে অবস্থান নিয়েছে। দেশের ইজ্জত আজ তলায় ঠেকেছে, এখন নীচের নামার আর সুযোগ নেই। পথ শুধু এখন সামনে এগুনোর। এখন আর আত্মঘাতী অনৈক্য ও বিভেদ নয়,তলায় নামাও নয়। চাই ঐক্য, চাই আত্ম-গঠন ও আত্ম-উন্নয়ন। বাংলাদেশের গৌরব বাড়তে পারে শুধু এ পথেই। বাঙালী জাতীয়তাবাদ, সেকুলারিজম, সমাজতন্ত্র ও মুজিবাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জাতির অমূল্য সময়ের বিপুল অপচয় হয়েছে। সেগুলো আবর্জনার স্তুপে ফেলে এখন সামনে এগুনোর সময়। এ লড়াইয়ে প্রকৃত ঈমানদারের হরানোর কিছু নাই। বরং জয়ের জন্য রয়েছে আল্লাহর অফুরন্ত নেয়ামত। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেছেন,

“নিশ্চয়ই ঈমানদারের জান ও মাল আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন জান্নাতের বিণিময়ে। (আল্লাহর সাথে কেনাবেচার এ চুক্তির কারণে) তাঁরা আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করে। এ লড়াইয়ে তারা যেমন শত্রুদের হত্যা করে,তেমনি নিজেরাও নিহত হয়”-(সুরা তাওবাহ, আয়াত ১১১)।

আল্লাহপাক আরো বলেছেন,“হে ঈমানদারগণ,তোমাদের কি এমন এক ব্যবসার কথা বলে দেব যা তোমাদের জাহান্নামের বেদানাদায়ক আযাব থেকে বাঁচাবে? আর সেটি হল,তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর বিশ্বাস কর,এবং তোমাদের সম্পদ ও প্রাণ দিয়ে জ্বিহাদ কর। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর যদি তোমরা জানতে পারতে।”-সুরা সাফ,আয়াত ১০-১১ )।



আল্লাহর সাথে ঈমানদারের চুক্তি এবং জাহান্নামের আগুণ থেকে বাঁচার জন্য যে ব্যবসাটির কথা কোরআনে বলা হয়েছে,সেটি কি নামায-রোযা-হজ্ব-যাকাতে আদায় হয়? নবীজী (সাঃ)কি তাঁর ইবাদত-বন্দেগী নিছক নামায-রোযায় সীমাবদ্ধ রেখেছিলেন? বস্তুতঃ এ লক্ষ্যে জ্বিহাদ বা লড়াইয়ের বিকল্প নেই। ঈমানদারের জীবনে এমন জ্বিহাদ বা লড়াই তো আমৃত্য। এ জ্বিহাদ,আল্লাহতায়ালার প্রদর্শিত পথ বেয়ে দেশগড়ার। এ জ্বিহাদ দূর্বৃত্ত বেঈমানদের হাত থেকে দেশ-মূক্ত করার,তথা আল্লাহর দ্বীনের বিজয়ের। নামায-রোযার বাইরে এ জ্বিহাদ লড়তে হয় প্রতিটি ঈমানদারকে। নবীজী (সাঃ)নিজে এবং সাহাবায়ে কেরাম নামায-রোযার বাইরে এমন লড়াই আমৃত্যু লড়েছেন। নবীজীর (সাঃ)এমন কোন সাহাবা পাওয়া যাবে না যিনি নিজের জান-প্রাণ দিয়ে এ কাজে ময়দানে নামেন নি। শতকরা ৬০ ভাগের বেশী সাহাবা সে লড়ায়ে শহিদ হয়েছেন। নবীজী (সাঃ) নিজে ৫০-এর বেশী যুদ্ধ লড়েছেন। সে লড়াই যে নিছক বহিঃশত্রু বা অমুসলমানদের বিরুদ্ধে তা নয়। বরং সে সব নামধারি মুসলমানদের বিরুদ্ধেও যারা আল্লাহর হুকুম তথা ইসলামের প্রতিষ্ঠায় বা বিজয়ে বাধা দেয়। ইসলামের মহান খলিফা হযরত আলী (রাঃ) তো তার শাসনামলে বড় বড় যুদ্ধগুলো লড়েছেন মুসলিম নামধারিদের বিরুদ্ধে। এমন যুদ্ধ করতে হয়েছিল হযরত আবু বকর (রাঃ) কেও। নবীজীর (সাঃ) ওফাতের পর এরা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছিল- যা ছিল আল্লাহর হুকুমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ। আজকের মুসলিম নামধারি সেকুলারগণ শুধু যাকাত বিধান নয়, সমগ্র ইসলামকে সেকেলে ও সাম্প্রদায়িক বলে সেটির প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করছে। ফলে আইন-আদালত, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা-সংস্কৃতির ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ইসলাম একটি পরাজিত আদর্শ। শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামের এমন পরাজিত দশা এক বিস্ময়ের বিষয়। আরবের বুকে ইসলাম যখন বিজয়ী আদর্শ তখনও সেখানে মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এতটা অধিক ছিল না। আরো বিস্ময়ের বিষয়, ইসলামের এমন পরাজিত দশার মধ্যে বাস করেও যারা নিজেদের ঈমানদার রূপে পরিচয় দেন তাদের মধ্য এ নিয়ে কোন মাতম নেই। বিজয়ের লক্ষ্যে কোন প্রস্তুতিও নেই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা ঈমানদারদের সাথে যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তির কথা বলেছেন, তা নিয়ে তাদের মধ্যে কোন অনুভূতিও নেই। ঈমানদার হওয়ার অর্থ যে এমন একটি কেনা-বেচার চুক্তিতে মহান আল্লাহর সাথে ওয়াদাবদ্ধ হওয়া,সে হুশ বা চেতনাই বা ক’জনের? তাই চরম অবহেলা হচ্ছে পবিত্র কোরআনে বর্ণীত আল্লাহর নির্দেশিত সে ব্যবসাটির সাথে। আল্লাহর পথে লড়াই ছেড়ে ধর্মপালনকে তাঁরা জায়নামাযে সীমাবদ্ধ রেখেছে। অথচ ইসলামের প্রয়োগের মূল ক্ষেত্রটি তো জায়নামাযের বাইরে। জায়নামায়ে যে ইবাদত, সেটির লক্ষ্য তো আল্লাহর সাথে কৃত চুক্তিপালনে ও তার নির্দেশিত ব্যাবসায় আত্মনিয়োগে অঙ্গিকার বাড়ানো। কিন্তু বাংলাদেশের মুসলমানদের নামায-রোযা তাদের জীবনে সে অঙ্গিকার কতটুকু বাড়িয়েছে? আল্লাহর পথে লড়াই দূরে থাক, তাদের অধিকাংশই পরিণত হয়েছে ইসলামের প্রতিষ্ঠারোধকারি সেকুলার রাজনীতিবিদদের অর্থদাতা, ভোটদাতা ও অবৈতনিক লাঠিয়ালে।আ ল্লাহর নির্দেশিত এজেন্ডা ভূলে তারা অঙ্গিকারবদ্ধ হয়েছে সেকুলার এজেন্ডা বাস্তবায়নে।আর এভাবে সেকুলার দলের নেতা-কর্মী বা সমর্থক রূপে তারা জেনেবুঝে খাটছে, আল্লাহর বিধানকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সর্বস্তরে পরাজিত করায়। অথচ এদের অনেকে নামায পড়ে, রোযা রাখে, হজ্ব করে, তাসবিহ্ তাহলিলও করে। নবীজী (সাঃ)র আমলে ইসলামের বিজয়ের কারণ, ইসলামের পক্ষের সকল জনশক্তি রক্তাক্ত লড়ায়ের ময়দানে পূর্ণ আত্মনিয়োগ করেছিলেন। সে সময় মুসলমান হওয়ার অর্থই ছিল, আল্লাহর দ্বীনের লড়াকু সৈনিক হওয়া। ফলে মুসলমান হয়েছেন অথচ প্রাণদানের প্রস্তুতি নিয়ে যুদ্ধ করেননি এমন কোন উদাহরণ নেই। অথচ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা পরিণত হয়েছে হয় নীরব দর্শকে, অথবা শত্রুপক্ষের সক্রিয় সমর্থকে। অপর দিকে ইসলামের বিপক্ষ শক্তি তাদের সকল জনশক্তিকে নিয়ে এসেছে রাজনীতির লড়ায়ে। মহান আল্লাহতায়ালা একটি জাতির ভাগ্য কখনই পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না সে জাতির লোকেরা নিজেরা নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন না করে। আর সে ভাগ্য পরিবর্তনের চাবি সেকুলারিজম যেমন নয়, তেমনি সমাজবাদ বা পুঁজিবাদও নয়। রাজনীতিতে নির্লিপ্ত সুফিবাদ বা দরবেশী জীবনও নয়। ভাগ্য পরিবর্তনের সে চাবিটি মহান আল্লাহতায়লা স্বয়ং দিয়েছেন। আর সেটি হল আল-কোরআন। ধর্ম-কর্ম,আইন-আদালতসহ মুসলমানের সমাজনীতি ও রাজনীতির এটাই হল একমাত্র রোডম্যাপ। আল্লাহর সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ও প্রিয় সৃষ্টির কল্যাণে এটিই হল তাঁর সবচেয়ে বড় দান। মানুষের পথ দেখানোর দায়িত্ব তিনি নিজ হাতে নিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে সে ঘোষনাটি এসেছে এভাবে,

“ইন্না আলাইনাল হুদা” অর্থঃ নিশ্চয়ই পথ দেখানোর কাজ আমার”।

ঈমানদারের দায়িত্ব হল সে পথ অনুসরণের। আল-কোরআন হল,আল্লাহতায়ালার প্রদর্শিত সে পথ,ইসলামি পরিভাষায় সিরাতুল মোস্তাকিম। কথা হল, বাংলাদেশের মুসলমানেরা সে দায়িত্ব কতটুকু কাঁধে তুলে নিচ্ছে? সে দায়িত্ব নিছক নামায-রোযা-হজ্ব-যাকাতে পালিত হয় না,রাজনীতির জ্বিহাদেও তাদেরকে নামতে হয়। একমাত্র তখনই সম্ভব হয় রাজনীতি ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে দুর্বৃত্তদের সরানো। মুসলমানের রাজনীতি থেকে যেমন ইসলামকে আলাদা করা যায় না, তেমনি আলাদা করা যায় না তার চেতনা থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবিরাম জ্বিহাদকে। হিন্দু ও ইংরেজদের সম্মিলিত চেষ্টাতেও ১৯৪৭ সালে সেটি সম্ভব হয়নি বলেই পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু একাত্তরে আওয়ামী বাকশালীদের বড় সাফল্য হল, মুসলমানের রাজনীতি থেকে তারা ইসলামকে আলাদা করতে পেরেছিল। ফলে পাকিস্তান টিকেনি। পাকিস্তান ছিল ইসলাম ও মুসলিম কেন্দ্রীক রাজনীতির ফসল। এদেশটির বেঁচে থাকারও এটিই ছিল একমাত্র প্রাণশক্তি। আওয়ামী-বাকশালী রাজনীতির বড় সাফল্য,তার সে প্রাণশক্তি জোগানোর শিকড়টাই দুর্বল করে দেয়। আর এতেই ধরাশায়ী হয় সর্ব-বৃহৎ এ মুসলিম রাষ্ট্রটি। বাংলাদেশেও তারা সে নীতির প্রভাব অব্যাহত রেখেছে। ইকবালের কথায়,

“দ্বীন আগার জুদা হোতা হ্যায় সিয়াসতছে রেহ যাতা হ্যায় চেঙ্গিজী” অর্থঃ “ধর্ম যদি পৃথক হয় রাজনীতি থেকে, তবে থেকে যায় শুধু চেঙ্গিসের বর্বরতা”


মুজিব আমলে বীভৎস বর্বরতা এজন্যই এত ব্যপকতর হয়েছিল। আওয়ামী-বাকশালী পক্ষটি আজও সেটিই চায়। মুজিব আমলে বাংলাদেশের মুখে চুনকালী লাগানোর যে কাজটি শুরু হয়েছিল এবং ১৫ ই আগস্টে হঠাৎ অসমাপ্ত রেখে তাদের বিদায় নিতে হয়, সেটিকেই তারা আবার নব উদ্যোমে শুরু করতে চায়। ভারতসহ সকল ইসলামবিরোধী শক্তি তাদের সে কাজে সর্বপ্রকার সহায়তা দিতে দু-পায়ে খাড়া। এবারের হামলার লক্ষ্য নিছক দেশের অখন্ড ভূগোল নয়,বরং ইসলামী চেতনা। মুজিবামলে ইসলামী দলগুলোকে নিষিদ্ধ করেছিল,কিন্তু নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি। এতেই তাদের আফসোস। এবার সে অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করার লক্ষ্যে শুরু হয়েছে নব প্রস্তুতি। রাজপথে তারই মহড়া হয় লগি-বৈঠা নিয়ে মানুষ হত্যায়। চায় আরেকটি একাত্তর। আবার চায় হত্যা, লুট, সন্ত্রাস ও অন্যের বাড়ীঘর জবর-দখলের অবাধ সুযোগ। একাত্তর আসলে,আসে ভারতীয় বাহিনী ও তার লুট, আসে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, আসে রক্ষিবাহিনীর অত্যাচার,আসে বহু লক্ষ মানুষের মৃত্যু। নিরস্ত্র-নিরীহ-বন্দী মানব হত্যা তখন উৎসবে পরিণত হয়। সে সাথে আসে বিশ্ব জুড়ে ব্যর্থ-রাষ্ট্র ও তলাহীন ঝুড়ি হওয়ার দূর্নাম। এমন একটি নতুন একাত্তর থেকে জাতি বাঁচতে হলে পুরোন একাত্তরের আত্মঘাতী ইতিহাসকে জানতে হয়। অথচ সে ইতিহাস পাঠই বাংলাদেশে হচেছ না। ফলে জনগণ ভুলে যাচেছ ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বৃত্ত মানুষদের কুকর্মগুলো। আর এর ফলে ইতিহাসের আস্তাকুঁড় থেকে উঠে আসছে পুরোন একাত্তরের অতি নিষ্ঠুর চরিত্রের মানুষগুলো। জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানা শাখা-প্রশাখার মাঝে ইতিহাস-বিজ্ঞানই অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান। গণিত, রসায়ন বা পদার্থ বিদ্যার জ্ঞান না থাকলে কারো মানুষ রূপে বেড়ে উঠা বাধাগ্রস্ত হয় না। মহান আল্লাহতায়ালা তাই এসব বিষয় শেখাতে কোন নবী-রাসূল পাঠাননি, কোন গ্রন্থও নাযিল করেননি। মানব ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ সভ্যতা যখন আরব ভূমিতে নির্মিত হল, তখন রসায়ন বা পদার্থ বিদ্যার চর্চা কতটা হয়েছিল? অথচ সেদিন অতিশয় গুরুত্ব পেয়েছিল ইতিহাস থেকে পাঠ গ্রহন। সে আমলেও তারা আদ-সামুদের কাহিনী, মাদাইয়েনের অধিবাসীদের কথা, ফিরাউন ও নমরুদের ইতিহাস, হযরত নূহ (আঃ) ও ইউনূস (আঃ) এর কিসসা, পবিত্র কা’বার উপর আবরাহার হামলার কথা তারা ভালভাবে জানতেন। সে সব অভিশপ্ত ও আযাবপ্রাপ্ত জাতিগুলো নিজেদের ধ্বংসের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য রেখে গেছে অতি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ। কোন বিজ্ঞান-ক্লাসে বা গবেষণাগারে সে পাঠলাভ হয় না। ইতিহাসের এ পাঠলাভের ফলেই নবীজীর (সাঃ)সাহাবাগণ জানতেন, আল্লাহর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পরিণতির কথা। জানতেন আল্লাহর আনুগত্যের পুরস্কার ও অবাধ্যতার শাস্তির কথা। ইতিহাসের জ্ঞান থেকে তারা সেদিন পেয়েছিলেন গভীর প্রজ্ঞা ও কান্ডজ্ঞান। নীতি ও নৈতিকতা নিয়ে বাঁচবার জন্য এমন প্রজ্ঞা তো অপরিহার্য। পৃথিবীর বুকে সবচেয়ে বড় ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ পরীক্ষাগার হল ইতিহাস। এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয় নানা ধর্ম, নানা মত ও নানা পথের এবং তাতে ব্যয় হয় মানব জাতির বহু রক্ত, বহু অর্থ, বহু মেধা ও বহু শ্রম। সে সাথে ব্যয় হয় বহু শত বছরের দীর্ঘ সময়। এরূপ বিপুল ব্যয়ে ও বিপুল আয়োজনে ইতিহাসের ভান্ডারে যোগ হয় শত শত কোটি মানুষের হাজার হাজার বছরের অমূল্য অভিজ্ঞতা। সে অভিজ্ঞতা কখনও গৌরবময় সাফল্যের,কখনও করুণ ব্যর্থতার। কখনও তা আনে গৌরব, কখনও আনে ভয়াবহ ধ্বংস ও আযাব। তবে এরূপ নানা ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে মানুষ হারিয়ে যায় না, বরং জীবিতদের জন্য রেখে যায় মূল্যবান শিক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার চেয়ে ইতিহাসের এ শিক্ষার গুরুত্ব কি কম?


মহামানবদের পাশাপাশি শেখবার প্রচুর উপাদান থাকে দুর্বৃত্তদের ইতিহাস থেকেও। তাই শুধু স্বাধীনতার লড়াকু সৈনিক টিপু সুলতানদের ইতিহাস পড়লেই চলে না,পড়তে হয় বিশ্বাসঘাতক মীরজাফরদের ইতিহাসও। পড়তে হয় উপনিবেশিক সাম্রাজ্যবাদীদের পররাজ্য গ্রাসের কৌশল ও তাদের শোষন প্রক্রিয়াগুলিও। পবিত্র কোরআনে মহাজ্ঞানী আল্লাহ তাই শুধু হযরত ইব্রাহীম (আঃ), হযরত মূসা (আঃ), হযরত ইউসুফ (আঃ) এর ন্যায় মহামানবদের কাহিনী বর্ণনা করেননি,বর্ণনা করেছেন নমরুদ, ফেরাউন, কারুন, আবরাহদের ন্যায় দুর্বৃত্তদের চরিত্রও । মুজিব পরিবার ও তার অনুসারিরাও তাদের দূর্নীতি, ব্যর্থতা ও বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশীদের জন্য রেখে গেছে অমূল্য শিক্ষা। ফলে তাদের ব্যর্থতা থেকে আজকের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বাঙালী মুসলমানদের শিখবার জন্য রয়েছে প্রচুর উপাদান।তবে বাংলাদেশীদের ব্যর্থতা এক্ষেত্রে প্রকট। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিতে হলে ইতিহাসটি সঠিক হওয়া চাই। ইতিহাসের কিতাব যদি পৌরানিক কল্পকথার ন্যায় মিথ্যাচারের পরিপূর্ণ হয়ে তবে তা পাঠে কোন কল্যাণ আছে কি? পৌরাণিক কিতাব পাঠে যেমন শাপশকুনও যেমন উপাস্য মনে হয় তেমনি মিথ্যা ইতিহাস পাঠে অতিশয় দুর্বৃত্তও সর্বকালের শ্রেষ্ঠ মানুষ মনে হয়। বাংলাদেশে ইতিহাস পাঠের নামে বস্তুতঃ সেটিই হয়েছে। একদিকে যেমন সঠিক ইতিহাস লেখা হয়নি, তেমনি বাড়েনি ইতিহাস থেকে পাঠ-গ্রহণের আগ্রহ। ফলে গড়ে উঠেনি ইতিহাস জ্ঞানলব্ধ প্রজ্ঞা ও কান্ডজ্ঞান। ফলে ব্যর্থতা ফুটে উটেছে দেশের রাজনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষা-দীক্ষা ও সংস্কৃতিতে। তাই মানুষ ঝুকছে দূর্নীতির রাজনীতির দিকে। ফলে দুর্বৃত্তদেরকে বিজয়ী করতে মানুষ দল বেঁধে ভোট দেয়,অর্থ দেয়,এমনকি প্রাণও দেয়। কোন সভ্যদেশে এটি কি আশা করা যায়? জনগণের মাঝে যে অজ্ঞতার কারণে নমরুদ, ফেরাউন, চেঙ্গিজ ও হিটলারের মত ব্যক্তিদের দলেও লোকের অভাব হয়নি, সেরূপ অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশেও লোকের অভাব হয়নি গণতন্ত্রবিধ্বংসী আওয়ামী-বাকশালী ও স্বৈরাচারিদের।


কোরআনে ফিরাউন, নমরুদ, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও হযরত মূসা (আঃ)-র কাহিনী বার বার উল্লেখ করা হয়েছে,যাতে মানুষ কে মূসা আর কে ফিরাউন সেটি চিনতে যেন ভূল না করে। আল্লাহতায়ালা এভাবে ভাল মানুষের ন্যায় খারাপ মানুষের মডেলও খাড়া করেছেন। এ দুই প্রকার মানুষ প্রতি যুগে প্রতি সমাজে ভিন্ন ভিন্ন নামে দেখা দেয়। বিষধর সাপ চেনার ন্যায় দুর্বৃ্‌ত্তদের চেনাও অতি জরুরী। নইলে পদে পদে বিপদ আসে। জনগণ তখন বার বার বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত হয়। তখন দেশের নেতা হয় দূর্বৃত্তরা। দেশ তখন বিশ্বরেকর্ড গড়ে দূর্বৃত্তিতে। নিছক খাদ্যশস্যের উৎপাদন বাড়িয়ে, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কলকারখানা গড়ে জাতি কি এমন দূর্যোগ ও গ্লানি থেকে মুক্তি পেতে পারে? পারে না।এজন্য চাই সুস্থ্য ইতিহাসজ্ঞান, চাই সুস্থ্য জীবন-দর্শন। সে সঠিক জ্ঞানের লক্ষ্যে চাই লাগাতর ইতিহাস চর্চা। চাই সঠিক ইতিহাসের বই। চাই কোরআনী জ্ঞান।অথচ বাংলাদেশে এর কোনটিই সঠিক ভাবে হচ্ছেনা। ইতিহাস রচনার নামে যা হচ্ছে তাতে দুর্বৃত্তরা চিত্রিত হচ্ছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালী রূপে। অপর দিকে সঠিক ইতিহাস ও কোরআনের দর্শন-চর্চা বন্ধ করতে বুদ্ধিবৃত্তিক ময়দানে চলছে চরমসন্ত্রাস; এবং সেটি ১৯৭১থেকেই। হামলা হয়েছে বইয়ের স্টলে। কথা বলতে দেয়া হয় না এবং প্রাণ-নাশের ভয় দেখানো হয় ইসলামপন্থি লেখকদের। ফলে বিগত ৩৭ বছরে খুব কম সংখ্যক ব্যক্তিই সাহস করে সত্য কথা বলেছেন। আর এতে বুদ্ধিবৃত্তির ময়দানে একচেটিয়া দখল জমিয়েছে আওয়ামী বাকশালী চক্র। ইতিহাস চর্চার নামে তারা সেটিরই চর্চা চায় যেটি তাদের পছন্দের। এ লক্ষ্যে মুজিবামলে ইতিহাস লেখার কাজে দলীয় লোকদের বসানো হয়েছিল। সে সময় ইতিহাসের বইয়ে পরিকল্পিত ভাবে ঢুকানো হয়েছে মিথ্যাচার। ভেজাল খাদ্যে সুস্থ্যতা হারায় ব্যক্তির দেহ,আর অসুস্থ্য দেহে সুখাদ্যে রুচি লোপ পাবে সেটিই তো স্বাভাবিক। তেমনি ভেজাল ইতিহাস পাঠে ইতিহাস থেকে ব্যক্তির শিক্ষা লাভই হয় না। আর এতে অসুস্থ্যতা বাড়ে মন ও মনন তথা চেতনায়।আর অসুস্থ্য চেতনার মানুষ কি পায় সঠিক জ্ঞান-লাভের আগ্রহ? নর্দমার কীটের ন্যায় সে তো খুঁজে আবর্জনার স্তুপ। এমন অসুস্থ্য চেতনার কারণেই নবীজীর (সাঃ)আমলে কাফেরগণ কোরআন তেলাওয়াত শুনলে কানে আঙ্গুল ডুকিয়ে দিত। অথবা কোরআন পাঠের আসরে পাথর ছুড়তো যাতে আসরই ভেঙ্গে যায়।তারা তো খূঁজতো আরব কবি ইমরুল কায়েসের অশ্লিল কবিতা। একই অবস্থা বাংলাদেশেও। এজন্যই বাংলাদেশের সেকুলার মহলে পবিত্র কোরআন ও ইসলামী বইয়ের প্রতি এত অনাগ্রহ ও অনাদর। ফলে বাংলাদেশে ইতিহাসের নামে বা সাহিত্যের নামে বিস্তর বই-পুস্তক লেখা হলেও তাতে প্রজ্ঞা বা কান্ডজ্ঞান বাড়েনি। বরং বিপুল ভাবে বেড়েছে মাছি-চরিত্রের মানুষ। প্রতি দেশেই এমন চরিত্রের মানুষ থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে তারা বেড়েছে ব্যাপক ভাবে।মাছি যেমন গলিত আবর্জনা খোঁজে,এরাও তেমনি নেতা রূপে দুর্বৃত্ত মানুষ খোঁজে।মাছি যেমন দুর্গন্ধময় আবর্জনার মাঝে মহা আনন্দ পায়, এরাও তেমনি দুর্বৃত্ত নেতাদের বিজয় নিয়ে মহা-উৎসব করে। তাদেরকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠও বলে। এদের কারণে বাংলাদেশের কোন নির্বাচনে সৎ মানুষের পক্ষে বিজয় লাভ অসম্ভব। নির্বাচন করতে হলে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ভোট যুদ্ধে নামতে হয়।আত্মঘাতি মানুষ যেমন জেনে বুঝে বিষ পান করে,আত্মঘাতি জাতিও তেমনি জেনেবুঝে মিথ্যাচর্চা করে। এবং অনৈক্য ও সংঘাতের পথ বেছে নেয়। এমন জাতির পরাজয়, অপমান ও ধ্বংস বাড়াতে কি বিদেশী শত্রুর প্রয়োজন পড়ে? জনগণের দেহ ও মনের সুস্থ্যতার খাতিরে তাই শুধু ভেজালযুক্ত খাদ্যকে আবর্জনার স্তুপে ফেললে চলে না,আবর্জনার স্তুপে ফেলতে ভেজালযুক্ত ইতিহাসের বইকেও। লিখতে হয়, পড়তে হয় এবং বাঁচিয়ে রাখতে হয় সঠিক ইতিহাস। এবং আরো অনিবার্য হল, সে ইতিহাস থেকে শিক্ষালাভ। অবিরাম আত্মঘাতি বিপর্যয়ের হাত থেকে একটি জাতি একমাত্র তখনই মূক্তি পেতে পারে। প্রথম প্রকাশঃ ২৪/০৪/২০০৮ দ্বিতীয় সংস্করণঃ ১২/১০/২০০৮



গ্রন্থপঞ্জি (Bibliography)


1. B.Ramon, 2007 The Kaoboys of the R&AW, Down Memory Lane, Lance Publishers & Distributors 2/42 Sarvapriya Vihar, New Delhi 11016

২. মাসুদুল হক, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে 'র’ এবং সিআইএ, মৌল প্রকাশনী ৩৮/২ক, বাংলা বাজার, ঢাকা ১১০০

৩.আতাউর রহমান খান, ২০০০ ওজারতির দুই বছর পঞ্চম সংস্করণ, নওরোজ কিতাবিস্তান ৫, বাংলাবাজার ঢাকা-১১০০

৪. ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন, ১৯৯৩ একাত্তরের স্মৃতি, নতুন সফর প্রকাশনী ৪৪, পুরানা পল্টন দোতালা, ঢাকা ১০০০

৫. সা’দ আহম্মদ, ২০০৬ আমার দেখা সমাজ ও রাজনীতির তিনকাল (বৃটিশ-ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ) খোশরোজ কিতাব মহল, ১৫ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০

6. G.W. Chowdhury, 1974 The Last Days of United Pakistan C. Hurst & Company, London

৭. আবুল মনসুর আহম্মদ, ১৯৮৯ আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর - পঞ্চম সংস্করণ সৃজন প্রকাশনী লিমিটেড, করিম চেম্বার ৫ম তলা, ৯৯ মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা ১০০০

৮. ইব্রাহিম হোসেন, ২০০৩ ফেলে আসা দিনগুলো নতুন সফর প্রকাশনী, ৪৪, পুরানা পল্টন দোতালা, ঢাকা ১০০০

৯. মুনির উদ্দীন আহমদ, ১৯৮০ বাংলাদেশ বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর জাতীয় গ্রন্থ বিতান, ১৭ কে জি গুপ্ত লেন, ঢাকা

১০. অলি আহাদ জাতীয় রাজনীতি ১৯৪৫ থেকে ১৯৭৫ বাংলাদেশ কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটি লি: ১২৫, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা ১০০০

১১. আব্দুর রউফ, ১৯৯২ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও আমার নাবিক জীবন প্যাপিরাস প্রকাশনী, ১২৩ আরামবাগ ঢাকা ১০০০

১২. এম. এ মোহাইমেন, ১৯৯৪ ইতিহাসের আলোকে দেশ বিভাগ ও কায়েদে আযম জিন্নাহ পাইওনিয়ার পাবলিকেশন্স, ২৮/১ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল বা/এ, ঢাকা ১০০০

13. Mohammad Seraj Mannan, 1987 The Muslim Political Parties in Bengal 1936-1947 Islamic Foundation Bangaldesh, Baitul Mukarram, Dhaka

১৪. সরকার শাহাবুদ্দীন আহম্মদ, ২০০৪ আত্মঘাতী রাজনীতির তিনকাল বুকস্‌ ফেয়ার, ৩৯ বাংলাবাজার, ঢাকা ১১০০

১৫. অশোকা রায়না, ১৯৯৬ ইনসাইড র’ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থার অজানা অধ্যায় (বাংলা অনুবাদ) অনুবাদ: লেঃ (অবঃ) আবু রুশদ রুমী প্রকাশনী

16. Peter Mansfield, 1985 The Arabs, Penguin Books Ltd, Harmondworth, Middlesex, England

Add this page to your favorite Social Bookmarking websites
 

Add comment


Security code
Refresh

 

Most Read