Home EBooks একাত্তরের স্মৃতি

eBooks

Latest Comments

একাত্তরের স্মৃতি
অধ্যায় ৯: ১৯শে ডিসেম্বরের ঘটনা PDF Print E-mail
Written by অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন   
Friday, 01 October 1993 00:09

১৯শে ডিসেম্বরের ঘটনা

১৯শে ডিসেম্বর যারা আমাকে বাসা থেকে পাকড়াও করে নিয়ে যায়, তারা ছিলো সব ছাত্র। এর মধ্যে ঢাকা ইউনিভার্সিটির ছাত্রও ছিলো। তবে আমার ডিপার্টমেন্টের নয় এবং এদের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো পরিচয় ছিলো না। আমাকে নিয়ে জিপ যখন বকশীবাজারের দিকে রওয়ানা হয় তখন শুনলাম এরা পরস্পরকে জিজ্ঞাসা করছে ইনিই ডক্টর সাজ্জাদ হোসায়েন কিনা। আমি ওদের আশ্বস্ত করে বললাম যে তাদের সংশয়ের কারণ নেই, আমিই ঐ ব্যক্তি। মিথ্যা পরিচয় দেওয়ার কোন প্রবণতা আমার ছিলো না। মিথ্যা পরিচয়ে মৃত্যূবরণ করে কি হবে? কারণ আমার বিশ্বাস ছিল যে আমাকে নিয়েই তো ওরা মেরে ফেলবে।

জিপটা বকশী বাজারের অলিগলি ঘুরে ক্যাম্পাস এলাকায় প্রবেশ করে এবং এটাকে ল' ফ্যাকালটির বিল্ডিং প্রাঙ্গণে দাঁড় করানো হয়। ছাত্ররা আমাকে টেনে তেতলার একটা কামরায় নিয়ে আসে। খুব সম্ভব সেখানে আরো দু'একটি ছেলে উপস্থিত ছিলো। কামড়ার দরজা বন্ধ করেই ওরা আমাকে মারধোর করতে শুরু করে। এক ঘুষিতে আমার চশমা ছুটে পড়ে যায়। মারের মধ্যে একজন আমার গায়ের কাপড় চোপড় খুলে নেয় এবং হাতের ঘড়িও ছিনিয়ে নেয়। আমার পরনে যে প্যান্ট ছিলো তার বেল্ট খুলে নিয়ে সেটা দিয়ে আমার বুকে পিঠে হাতে আঘাত করতে শুরু করে। লক্ষ্য করে দেখলাম ডান হাতের আঙ্গুলের গোড়ার চামড়া ফেটে রক্ত বেরুচ্ছে। আমি চুপ করে এসব সহ্য করছিলাম। কারণ জানতাম এদের সাথে তর্ক করতে গেলে নিপীড়ন বৃদ্ধি পাবে। মারের সঙ্গে আমাকে গালাগালিও করা হচ্ছিলো। পাকিস্তান আর্মির দালাল হিসাবে আমি নাকি বহু হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত। আমি শুধু একবার বলেছিলাম যে আমার অপরাধ হয়ে থাকলে তার বিচার হোক। বলাবাহুল্য এতে যেনো ওদের ক্রোধ আরো বৃদ্ধি পেলো।

বেশ কিছুক্ষণ মারধোর করার পর ওরা পিঠমোড়া করে আমার দু'হাত বেঁধে দিলো এবং চোখও রুমাল দিয়ে বাঁধা হলো। এরপর বন্দুকধারী এক যুবকের জিম্মায় আমাকে রেখে বাকী সবাই ঐ কামরা থেকে চলে যায়। এই ছেলেটি ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে আমাকে পাহারা দিতে থাকে।

 
অধ্যায় ১০: শহীদের বন্যা PDF Print E-mail
Written by অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন   
Friday, 01 October 1993 00:10

মুজিবপন্থী কোনো ব্যক্তি দুর্ঘটনায় মারা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সে শহীদ হয়ে যেতো। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে এ রকমের শহীদের সংখ্যা যে কতো তা গণা যায় না। শহীদ কথাটার আসল তাৎপর্য এই যে ইসলামের জন্য যুদ্ধ করে কেউ যদি নিহত হয় তার মৃত্যূকেই শাহাদত বলা হয়। রসুলুল্লাহ (দঃ) এর জীবদ্দশায় কাফেরদের সঙ্গে যুদ্ধে বদর, ওহুদ প্রভৃতি স্থানে যাঁরা মারা যান তাঁদেরই, শরিয়ত মতে শহীদ বলা হয়। কিন্তু তখনো অন্য অবস্থায় কাফেরদের হাতে যাঁরা নিহত হন তাঁদের শহীদ বলার নিয়ম নেই। কাফেরদের অতর্কিত আক্রমণে মারা গেলেই শাহাদত হবে তার কোনো কথা নেই। শুধু যে ব্যক্তি প্রত্যক্ষভাবে ইসলাম বিরোধী শক্তির সঙ্গে সংগ্রামে লিপ্ত হয়ে মূত্যূবরণ করেন তিনিই শহীদ। পূর্ব পাকিস্তানে '৭১ সালের আগেও দেখেছি সরকারের সঙ্গে সংঘর্ষে কারো মৃত্যূ হলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে শহীদ ঘোষণা করা হতো। '৭১ সালে পাকিস্তান আর্মির হাতে যারা নিহত হলো তারা সবাই হয়ে গেছে শহীদ। অথচ এর মধ্যে ধর্মযুদ্ধের কোনো কথা নেই।

আমি এ কথা স্বীকার করি যে যেহেতু বাংলায় শহীদের কোন প্রতিশব্দ নেই, এ শব্দটা বাংলায় গৃহীত হয়েছে একটু ভিন্ন অর্থে। যে ব্যক্তি কোন আদর্শের জন্য প্রাণ দেয় তাকে শহীদ বলার একটা নিয়ম দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু যে ব্যাপক অর্থে এবং বিকৃত রূপে শব্দটা ৫২ সাল থেকে ব্যবহত হচ্ছে তার পরিণতি দাঁড়িয়েছে এই যে দল বিশেষের লোকের অপঘাতে মৃত্যূ হলেই কাগজেপত্রে তার শাহাদত প্রাপ্তির খবর ঘোষণা করা হয়। 

ডিসেম্বর-জানুয়ারীতে আরো একটি প্রক্রিয়া শুরু হয়। সে হলো নাম বদলের পালা। যে সব রাস্তাঘাট প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে ইসলাম শব্দটা যুক্ত ছিল, সেখান থেকে ঐ শব্দটা তুলে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে, পাকিস্তান আমলের বা তার আগের কোনো মুসলমান নেতার নামে কোন রাস্তাঘাট-শিক্ষা প্রকিষ্ঠানের নামকরণ হয়ে থাকলে সেখান থেকেও ওসব নাম অপসারিত হলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হল হলো সার্জেন্ট জহুরুল হক হল, আর জিন্নাহ হলের নাম থেকে জিন্নাহর নাম সরিয়ে বসানো হলো সূর্যসেনের নাম। এ ছিলো এক ধরণের গোঁয়ার্তুমির অভিব্যক্তি। সার্জেন্ট জহুরুল হক ছিলেন একজন সাধারণ সৈনিক। পঁচিশে মার্চের আগে কুর্মিটোলা ক্যান্টনমেন্টে বিদ্রোহ করতে যেয়ে গুলীতে মারা পড়েন। আগরতলা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন। যখন আগরতলা ষড়যন্ত্রের কথা প্রথম প্রকাশ হয়ে পড়ে তখন আওয়ামী লীগ তারস্বরে চিৎকার করে বলতে শুরু করে যে এটা সরকারের সম্পূর্ণ বানোয়াট। একাত্তর সালের পর শেখ মুজিবসহ এ ষড়যন্ত্রের নায়কেরা স্বীকার করেছেন যে তারা সত্যই দেশের বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ার সঙ্গে এক যোগসাজশে লিপ্ত হয়েছিলেন। সে একজনের নাম ইকবালের মতো বিশ্ববিখ্যাত কবি ও দার্শনিকের নামের পরিবর্তে একদল ছাত্রের জিদে গৃহীত হওয়ায় আমরা ব্যথিত এবং আশ্চর্যান্বিত হই। ইকবাল পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেছিলেন এ কথা সত্য। কিন্তু তিনি ইন্তেকাল করেন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ন'বছর আগে ১৯৩৮ সালে। ১৬ই ডিসেম্বরের পর পাকিস্তান বিরোধী তৎপরতা এমনভাবে বৃদ্ধি পায় যে পাকিস্তান এবং ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত ইতিহাসের চিহ্নটুকু মুছে ফেলবার প্রয়াসে আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ মেতে উঠেন।

 
অধ্যায় ১১: জেলের জীবন PDF Print E-mail
Written by অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন   
Friday, 01 October 1993 00:11
 
অধ্যায় ১২: টেন সেলের ঘটনা PDF Print E-mail
Written by অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন   
Friday, 01 October 1993 00:12

এ সময় কলাবরেটর কেসে আত্মরক্ষার জন্য অনেকে উকিলের পরামর্শে একটা শব্দ ব্যবহার করতেন। সেটা হলো DURESS অর্থাৎ চাপ। সবাই বলেছেন যে পাকিস্তান আর্মির চাপে তাদের অনেক কিছুই করতে হয়েছে যা হয়তো স্বেচ্ছায় তাঁরা করতেন না। এ কথা বলা ছাড়া উপায়ন্তর ছিল না। কিন্তু এটা যে সস্পূর্ণ অসত্য তাও নয়। আমি আগে বলেছি যে, পাকিস্তান আর্মি বাংলাভাষী প্রায় সবাইকে অবিশ্বাস করতো। সে জন্য তাদের রোষে না পড়ার একটা উপায়া ছিল একটু বেশি করে ইসলাম প্রীতি জাহির করা। এটা ছিলো অত্যন্ত বিব্রতকর একটা অবস্থা। আবার এদিকে প্রকাশ্যে শেখ মুজিবের বিরোধিতা করেছে এ অভিষোগ প্রমাণিত হলেও রক্ষা ছিল না। আমার মনে আছে ফজলুল কাদের চৌধুরিকে যখন কোর্টে হাজির করা হয় তিনি পর্যন্ত বললেন যে, তিনিও এক সময় মুজিবকে সাহায্য করেছেন এবং এমন ভাষা ব্যবহার করলেন যাতে মনে হতে পারে যে, তিনি বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধাচরণ করেননি। তাঁর জন্য দুঃখ্য হলো। অনেকের বোধ হয় মনে নেই যে, ১৬ই ডিসেম্বরের পর ফজলুল কাদের সাম্পান ভাড়া করে কিছু টাকা-পয়সা নিয়ে আরাকানের দিকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফজলুল কাদের চৌধুরীর মতো ব্যক্তির পক্ষে আত্মগোপন করা অসম্ভব ছিল। পথ থেকে তাঁকে ধরে আনা হয়।

আমি উল্লেখ করতে ভুলে গেছি যে 'সাত সেলে' যখন প্রথম আসি তখন যাদের পেয়েছিলাম তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন হাফিজউদ্দিন। হাফিজউদ্দিন ইসলামিয়া কলেজের আমার পুরানো ছাত্র। সে ছিলো এক ব্যাংকের ম্যানেজার। সম্ভবতঃ মুসলিম কমারশিয়াল ব্যাংকের ম্যানেজার। শেখ মুজিবের এক কেইসে তাকে সাক্ষী দিতে হয়, এই অপরাধে তার কারাবাস। সে ছিল খুব দিল খোলা লোক। মতাদর্শের দিক থেকে চরম মুজিব ভক্ত। সবাই বলতো আপনার মত ব্যক্তিকে কেন জেলে আসতে হল? পূর্ব পাকিস্তান কিভাবে শোষিত হয়েছে সে সম্পর্কে অনেক আজগুবি গল্প তার কাছে শুনতাম। দেশে নতুন ব্যাংক চালু করার প্রয়োজন যখন ঘটে তখন শেখ মুজিবের বার্তাবহ এক ব্যক্তি এসে তাকে নিয়ে যায়। সেদিনকার ঘটনটি বিশেষভাবে মনে থাকবার কারণ হাফিজউদ্দিন রাতের ভাত কিছুটা জমা করে পান্তা করে রেখেছিল। সকাল বেলা কাঁচা মরিচ আর পিয়াজ দিয়ে এসব খাবে- এই ইচ্ছা ছিল। প্রথমবার যখন খবর আসে তাকে জেলের অফিসে যেতে হবে, সে জানায় সে গোসল সেরে নাশতা করে যাবে। দশ মিনিট পর আবার তাগিদ এলো। এবারও সে একই জবাব দিলো। মুক্তি আসন্ন এটা তাকে জানানো হয়নি। স্থির করেছিলে পান্তাটা খেয়েই সে যাবে। তৃতীয়বার আসল খবর পাওয়া গেলো। পান্তা আর তার খাওয়া হলো না। আমরা মোবারকবাদ জানিয়ে তাকে বিদায় দিলাম। এরপর আর কখনো তার সাথে দেখা হয়নি। হাফিজউদ্দিন ছিলো অত্যন্ত নিঃরহঙ্কার। বেশ লেখা পড়া জানতো। এ রকম লোকের মাথায় মুজিববাদী প্ররোচনা কিভাবে বাসা বেঁধে ছিলো তা নিয়ে আমি আর মোহর আলী অনেক জল্পনা-কল্পনা করেছি। জেলে কিছুদিন থাকবার পর ডাক্তার বাসেত স্থির করেন যে, তিনি শেখ মুজিবের কাছে মুক্তির আবেদন করবেন। তাঁকে নিরস্ত করা গেলো না। তাঁর আবেদনে আর্মি DURESS বা চাপের কথাতো ছিলোই আর ছিল তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা। এতে হয়তো কিছুটা কাজ হয়েছিলো। কারণ আমাদের ছয়মাস আগে, ৭৩ সালের মে বা জুন মাসে তিনি রেহাই পান।

 
উপসংহার PDF Print E-mail
Written by অধ্যাপক সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েন   
Friday, 01 October 1993 00:13

পাকিস্তানে পাটকল, সুতার কল, টেক্সটাইল মিল ইত্যাদি যা প্রতিষ্ঠিত হয় সেটা নাকি শুধু বঞ্চনা এবং শোষণের প্রমাণ। পাকিস্তান আমলেই এ অঞ্চলে গ্যাস আবিষ্কৃত হয়। গ্যাস তো হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। বহু শতাব্দী ধরে মাটির নীচে মওজুদ ছিলো। কিন্তু বৃটিশ আমলে কখনোই পূর্ব বাংলায় গ্যাসের অনুসন্ধান করা হয়নি। পাকিস্তানে প্রথম গ্যাস আবিস্কৃত হয় সিন্ধুর সুই এলাকায়। তার অব্যবহিত পরে হরিপুর এবং বাখরাবাদে গাসের সন্ধান পাওয়া যায়। কিন্তু এ তথ্যের মূল্যায়ন আওয়ামী লীগের কাছে পাইনি।

আগাগোড়াই বলা হয়েছে যে পাকিস্তান আমলে আমাদের ইতিহাস ছিলো শুধু বঞ্চনার ইতিহাস; কেন্দ্রীয় শাসনকর্তারা এ অঞ্চলটাকে যথাসম্ভব অনুন্নত রাখবার চেষ্টা করতেন। '৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হবার পর সমাজবিজ্ঞান বিভাগের মিঃ হাসিব আমার সামনে তাঁর বৃটিশ স্ত্রীকে বলেন, এ অঞ্চলটা পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য হচ্ছে শুধু কাঁচামাল সরবরাহের কেন্দ্র। ঐ ভদ্র মহিলা প্রশ্ন করেছিলেন এ বিদ্রোহ কেন হচ্ছে? কৌতুকের কথা আমি জেল থেকে বেরুবার পর মিঃ হাসিব একদিন ঢাকায় আমার সাথে সাক্ষাৎ করতে আসেন। পরনে একটা পুরানো লুঙ্গি, গায়ে ময়লা শার্ট, পায়ে ছেঁড়া স্যান্ডেল এবং হাতে একটা ভাঙ্গা ছাতা। আমি বললাম, আপনার এ অবস্থা কেনো?

 
‘একাত্তরের স্মৃতি’ নিয়ে কথায় কথায় কিছু কথা PDF Print E-mail
Written by মোহাম্মদ তাজাম্মুল হোসেন   
Saturday, 23 May 2009 00:00

ক’দিন আগে একজন জুনিয়র বন্ধু ফোন করে বললেন যে তিনি একটি বই পুনর্মুদ্রন করতে চান। জুনিয়র বন্ধুটি যেহেতু ইতিমধ্যেই তিন তিনখানা সাহসী বই লিখেছেন-(১) আমি আলবদর বলছি, (২) দুই পলাশী দুই মীরজাফর, (৩) দুই পলাশী দুই আম্রকানন এবং যে কারণে আমি তার সাহসের এযাবৎকাল প্রায় দুই দশকব্যাপী প্রশংসা করে চলেছি, তাই এই নতুন সাহসী কাজে তার উৎসাহ এবং প্রশংসনীয় উদ্যোগে আমি না করতে পারিনি। যে বইটি পুনর্মুদ্রন করতে চান সেই বইটি জীবন স্মৃতির কিছু বিষয়ে লিখিত। মরহুম ডঃ সৈয়দ সাজ্জাদ হোসাইন এর ‘একাত্তরের স্মৃতি’।

বইখানির বিষয়াদি ১৯৯০ এর দশকের শুরুতে লিখিত। বই আকারে প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে। এর আগে সেসব বিষয়াদি আশরাফ হোসাইন সম্পাদিত মাসিক ‘নতুন সফর’ এ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়। বস্তুতঃ আশরাফ হোসাইন লেখকের বাড়ীতে ১০৯নং নাজিমুদ্দীন রোডে গিয়ে বসে বসে দিনের পর দিন নোট লিখে নিতেন। তারপর ধারাবাহিকভাবে সেসব প্রতিমাসে ছাপার অক্ষরে প্রকাশ করতেন। আমার মত অনেকেই সেসব পড়ে অভিভূত হতাম বটে। সৌভাগ্যবশতঃ আমরা মুসলিম রেনেসাঁ আন্দোলনের পক্ষে সেসব প্রকাশিত অংশবিশেষ সংকলিত করে লেখকের জীবিতকালেই বই আকারে (২০৭ পৃষ্ঠা) প্রকাশ করি। বইটি আমরা কোনরূপ বাণিজ্যিক কারণে প্রকাশ করিনি, করেছিলাম হরিয়ে যাওয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক তথ্য রেকর্ড করে রাখার জন্য। ভবিষ্যৎ বংশধরদের জানা-শোনার পরিধি-কিঞ্চিৎ হলেও সুস্পষ্ট করার কারণে। ভূরি ভুরি অসত্য, আধাসত্য, আজগুবি ও মনগড়া প্রপ্যাগান্ডার বিপরীতে সঠিক তথ্যাদি রেকর্ড করে রাখার উদ্দেশ্যে।

শুরুতে লেখকের কিছু পরিচিতি এবং আমার সাথে তাঁর সম্পর্কের কিছু জরুরী কথা বলা প্রয়োজন। সেসব বিষয় এখানে উলেখ করা এজন্য নয় যে, লেখকের অহেতুক একটি ইমেজের ছবি তুলে ধরা, বরং এজন্য যে তিনি ইতিমধ্যেই যেভাবে প্রায় হারিয়ে গেছেন-অথচ তাঁর মাপের একজন জ্ঞাণী-গুণী-মহান ব্যক্তির জীবন থেকে অনেক কিছুই শিখবার আছে। অনুকরণ করারও অনেক বিষয়ই আছে।

 
«StartPrev12NextEnd»

Page 2 of 2